গোপনসূত্রের খবরে মালদার বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশের দল হানা দিলো অন্তঃরাজ্য জালনোট পাচারকারীর বাড়িতে। উদ্ধার হলো প্রায় লক্ষ টাকার জালনোট। ঘটনায় জালনোট পাচারকারী গৃহকর্তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারলেও, নোট পাচারে মদতের অভিযোগে পুলিশ তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত মহিলাকে শনিবার মালদা জেলা আদালতে তোলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, ধৃত মহিলার নাম নাজেমা বিবি(৩৫)। শুক্রবার গভীর রাতে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ গোপনসূত্রের খবর মাফিক সাহাবানচক অঞ্চলে পূর্ব বেদরাবাদ গ্রামে হানা দেয়। ওই গ্রামের বাসিন্দা মোহম্মদ উজির শেখের বাড়িতে ঢুকে পড়ে পুলিশের দল। শুরু হয় পুলিশের তল্লাসি। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে ৪৮ টি ২ হাজার টাকার জালনোট। গৃহকর্তা অনুপস্থিত থাকায় মোট ৯৬ হাজার টাকার জালনোট সহ বাড়ির মহিলাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে গৃহকর্তা অন্তঃরাজ্য জালনোট পাচারকারী উজির শেখ পলাতক। তার খোঁজে তল্লাসি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের জালে ধরা পরে স্বামীর জালনোট পচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে স্ত্রী নাজেমা বিবি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান,"তার স্বামী এক বছর ধরে জালনোট পাচার করে আসছে। ৯৬ হাজার টাকার জালনোট স্বামী আমায় রাখতে দিয়েছিলো। এর বেশি আমি কিছুই জানিনা"।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,এই উজির শেখ একজন ভিনরাজ্যের শ্রমিক। দিন আনতে পান্তা ফুরাতো যার এখন লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাড়ি তৈরি করেছে। বছর খানেক ধরে তার স্বভাব চালচলনে পরিবর্তন ঘটে। কমে যায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা। জালনোট পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এমন পরিবর্তন বলেই মনে করছে স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, উজির শেখ দীর্ঘদিন ধরে জালনোট পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৩ বছর আগে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জালনোট দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করার অভিযোগে বেঙ্গালোরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিলো। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই আবারও নতুন ২ হাজার টাকার জালনোট পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। উজির দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জালনোট পাচার করে আসছিলো বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। তাই তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও তথ্যের ভান্ডার প্রকাশ হবে বলে মনে করছে জেলা পুলিশ।